ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

ক্ষমতাচ্যুত মন্ত্রীর ভাতিজার ‘ক্যাশিয়ার’ হাসানও কোটিপতি

  • আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৪ ১১:৫৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৪ ১১:৫৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
ক্ষমতাচ্যুত মন্ত্রীর ভাতিজার ‘ক্যাশিয়ার’ হাসানও কোটিপতি

সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ভাতিজা আমির হোসেনের ক্যাশিয়ার আহসান কবির হাসান রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন
স্টাফ রিপোর্টার
ক্ষমতাচ্যুত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের ভাতিজার ক্যাশিয়ার আহসান কবির হাসানও কোটিপতির তালিকায় উঠে এসেছেন। হাসানের এই অর্থনৈতিক উত্থান কুমিল্লাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হাসান, যিনি একসময় ঢাকার বনশ্রীতে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন, এখন কোটি কোটি টাকার মালিক।
মো. তাজুল ইসলাম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হয়ে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে একই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) জাহিদ হোসেন ও তার এক ভাতিজার হাতে। তাদের ইশারায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বদলি, টেন্ডার বাণিজ্য, এবং নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য চলত। মন্ত্রীর উপস্থিতি ছাড়াই এপিএস জাহিদ ও তার ভাতিজা মন্ত্রণালয়ে নিয়মিতভাবে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতেন।
এপিএস জাহিদ এবং মন্ত্রীর ভাতিজা মিলে প্রকৌশলীদের বদলির জন্য ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করতেন। প্রকল্পের টেন্ডার ছাড়াও তারা স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত বা প্রত্যাহারের ক্ষমতাও কার্যত নিজেদের হাতে নিয়েছিলেন। মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ, কর্মকর্তা বদলি, এবং ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল অপ্রতিরোধ্য। তাদের দুর্নীতির কারণে বহু বড় আমলা ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় থাকতেন।
তাজুল ইসলামের নির্বাচনী এলাকা মনোহরগঞ্জ এবং লাকসাম উপজেলায় তার ভাতিজা আমির হোসেন বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ ও বদলির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মন্ত্রীর আরেক ভাতিজা, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমির হোসেনের সঙ্গে আঁতাত করে আহসান কবির হাসানও এই অপকর্মে অংশ নেন। হাসান ঢাকায় বসবাস করতেন এবং ই-টেন্ডার দাখিলের দায়িত্বে ছিলেন। বিভিন্ন ঠিকাদারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে, যার মাধ্যমে তিনি তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।
মন্ত্রীর এই ভাতিজা আমিরের নির্দেশে আহসান কবির হাসান মনোহরগঞ্জে চলে আসেন এবং সেখানে বসে ঠিকাদারি কাজ ও প্রকৌশলীর বদলি বাণিজ্য শুরু করেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৮% থেকে ১০% পর্যন্ত কমিশন নিয়ে তিনি কাজ বিক্রি করতেন। শুধু তাই নয়, প্রকৌশলীদের বদলি করার জন্যও তিনি বড় অঙ্কের টাকা নিতেন। একসময় যিনি ঢাকায় দৈনিক জীবনযাপন নিয়ে সমস্যায় ছিলেন, সেই হাসান রাতারাতি কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তার নামে দুটি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছেÑএকটি টয়োটা এবং একটি হেরিয়ার। তিনি ঢাকার বনশ্রীতে একটি আলিশান বাড়িতে বসবাস করছেন।
তাজুল ইসলামের ভাতিজা আমির হোসেন এবং তার ক্যাশিয়ার আহসান কবির হাসানের বিরুদ্ধে উঠা দুর্নীতির অভিযোগ কেবল বদলি বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০% পর্যন্ত কমিশন গ্রহণ করতেন। বিশেষ করে এলজিইডি, ডিপিএইচই, এবং সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকা প্রকল্পগুলোর টেন্ডার থেকে তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
কথিত আছে, মন্ত্রী হওয়ার আগে আমির হোসেন ঢাকার সুবাস্তু নজর ভ্যালিতে একটি ছোট রুমের ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঠিকমতো বাসা ভাড়া দেওয়াও তার জন্য কঠিন ছিল। তবে মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই তার জীবনযাত্রায় নাটকীয় পরিবর্তন আসে। মন্ত্রণালয়ের দামী গাড়ি ব্যবহার করা শুরু করেন এবং বনানীতে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। এছাড়াও তার একটি হাউজিং ব্যবসা রয়েছে, যা দিয়ে তিনি জমি কিনে প্লট বিক্রির ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
এপিএস জাহিদও তার দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ডিপিএইচই ও ওয়াসার সচেতনতামূলক কার্যক্রম তৈরির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করেছেন। বিশেষ করে ডেঙ্গুবিষয়ক সচেতনতামূলক একটি অনুষ্ঠানের খরচ বাবদ ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও এর মধ্যে ৫ কোটি টাকা তার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের ভাতিজা ও এপিএস জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ায় কর্মকর্তারা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাদের দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের এপিএস জাহিদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
ক্যাশিয়ার আহসান কবির হাসানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য